বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘দুর্বল ব্যাংকের গ্রাহকরা তাদের জমা টাকা ফেরত পাবেন, তবে সেজন্য সময় দিতে হবে। ধাপে ধাপে টাকা ফেরত দেয়া হবে।’
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গতকাল এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
দুর্বল ব্যাংকে টাকা আটকা পড়ার দায় গ্রাহকদের দিয়ে আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে ১০ বছর আগে থেকে বলে আসছি এস আলমের ব্যাংকে আপনারা টাকা রাখবেন না। কিন্তু আপনারা টাকা রেখেছেন। তারা ২ শতাংশ সুদ বেশি দিয়েছে, আপনারা সেখানেই টাকা রেখেছেন। এখন ধরা খেয়েছেন।’
আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘এখন আমরা আপনাদের উদ্ধার করব; কিন্তু এখনই সেটি পারা যাবে না। আমরা ধাপে ধাপে করব; সেজন্য সময় দিতে হবে।’
সংকট দূর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কী করছে তা জানিয়ে গভর্নর বলেন, ‘আমরা ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্টের দিকে যাচ্ছি, কিছু ব্যাংক একীভূত করতে হবে। এ বছরই হয়তো অনেক কিছু করা হবে। এতটুকু বলতে পারি, আপনারা টাকা পান আর বন্ড পান, কিছু একটা পাবেন।’
আগামী পাঁচ বছর ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্রমেই চ্যালেঞ্জিং হবে উল্লেখ করে আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘বর্তমানে সারা দেশে ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের ২৪ হাজার শাখা রয়েছে। যেখানে ব্যাংকগুলোর প্রায় ২৪ হাজার এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ব্যাংকগুলো তাদের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজারে উন্নীত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
তিনি ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘মোবাইল আর্থিক পরিষেবা (এমএফএস) প্রদানকারীরা এখন ঋণ প্রদান ও আমানত সংগ্রহ করছে। এছাড়া ডিজিটাল ব্যাংকের উত্থান ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের।